শব্দ দূষণ ও শব্দ দূষণ ব্যবস্থাপনা

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় শব্দ দূষণ ও শব্দ দূষণ ব্যবস্থাপনা

শব্দ দূষণ ও শব্দ দূষণ ব্যবস্থাপনা

যে কোনো বস্তুতে ঘর্ষণের ফলে এক ধরনের তরঙ্গ ধ্বনির সৃষ্টি হয়। এই তরঙ্গ ধ্বনি মূলত এক প্রকার শক্তি । এই তরঙ্গ শক্তি মানুষের কানে প্রবেশ করে শ্রবণ অনুভূতি সৃষ্টি করে। ফলে আমরা শুনতে পাই। একে শব্দ বলে। মানুষ যে ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে শব্দ শোনে তার একটি ধারণক্ষমতা আছে, যা টেবিল-৯.৪ এর মাধ্যমে দেখানো হয়েছে।

মানুষের শ্রবণযন্ত্রের স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতা ১-৭৫ ডেসিবল। মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের ধারণ ক্ষমতার ঊর্ধ্বে সৃষ্ট যে শব্দ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ব্যাঘাত ঘটায় তাকে শব্দ দূষণ বলে।

টেবিল-৯.৪ তীব্রতা অনুসারে শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের ধারণক্ষমতা

 

শব্দ দূষণ ও শব্দ দূষণ ব্যবস্থাপনা

শব্দ দূষণের কারণ

নগর অঞ্চলে ভবন নির্মাণের শব্দ, পাইলিং এর সময় বিকট শব্দ, যানবাহনের হর্ণ, বিমান উড্ডয়নের তীব্র শব্দ, গোলাবারুদ, বোমা, গ্রেনেড বিস্ফোরণ এর বিকট শব্দ, শব্দ দূষণের কারণ। অনেক সময় রাজনৈতিক সভা, সমাবেশ, মিছিল, হাট বাজারের শব্দ, মাইক, ক্যাসেটের বা রেডিওর উচ্চ শব্দে গান বাজনা শব্দ দূষণ ঘটায়। এছাড়াও ছাপাখানা, পাথরভাঙ্গা মেশিন, শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র, সারকারখানার অধিক শব্দ দূষণ ঘটায়।

শব্দ দূষণের প্রভাব

মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের ধারণ ক্ষমতার ঊর্ধ্বে সৃষ্ট শব্দে মানুষের ইন্দ্রিয় ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অতিরিক্ত শব্দে মানুষের বিভিন্ন ধরনের শারীরিক এবং মানসিক অসুস্থতা তৈরি করে। যেমন- শব্দ দূষণের ফলে স্মৃতিশক্তি হ্রাস, মেজাজ খিটখিটে, বমিভাব, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, স্নায়ুতন্ত্রের প্রভাব, অস্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস, শিশুর দৈহিক বিকাশে বাধাগ্রস্ততা, বধিরতা পর্যন্ত হতে পারে।

শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণের উপায়

শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে শব্দ দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬ অনুসারে এলাকাভিত্তিক শব্দের মানমাত্রা এবং মোটরযান ও যান্ত্রিক নৌযানজনিত শব্দের অনুমোদিত মানমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। টেবিল ৯.৫, ৯.৬ লক্ষ করুন।

টেবিল-৯.৫ এলাকাভিত্তিক শব্দের মানমাত্রা

 

শব্দ দূষণ ও শব্দ দূষণ ব্যবস্থাপনা

উৎস – শব্দ দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬

টেবিল-৯.৫ মোটরযান ও যান্ত্রিক নৌযানজনিত শব্দের অনুমোদিত মানমাত্রা

 

শব্দ দূষণ ও শব্দ দূষণ ব্যবস্থাপনা

উৎস – শব্দ দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬

শব্দ দূষণ যেহেতু শারীরিক ও মানসিকভাবে মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তাই শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ। শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সর্বপ্রথম মানব শরীরে শব্দ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব ও শব্দ দূষণের কারণ সম্পর্কে সর্বমহলে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। এছাড়াও শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনায় নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে-

  • উচ্চ শব্দে মাইক বাজানো, জনসমাগমে মাইকের ব্যবহার, উচ্চ শব্দে গান বাজনা বাজানো, অকারণে শব্দ করে হাঁটা, চিৎকার করা প্রভৃতি বিষয়ে সচেতন হতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত, হাসপাতাল প্রভৃতি এলাকায় হর্ণ না বাজানো। শিল্প কারখানার তীব্র শব্দ উৎপাদানকারী যন্ত্রপাতির প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ঘটিয়ে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
  • শব্দের মানমাত্রা অতিক্রমকারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। অনুমতি ব্যতীত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কোনো এলাকার শব্দের সর্বোচ্চ মানমাত্রা অতিক্রম করতে পারবে না।
  • শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো ব্যক্তি মোটর, নৌ বা অন্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কোনো এলাকার শব্দের সর্বোচ্চ মানমাত্রা অতিক্রম করতে পারবে না।
  • নিরব এলাকায় (হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত) হর্ণ বাজানো যাবে না।
  • কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে খোলা বা আংশিক খোলা জায়গায় বিবাহ বা অন্য কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, কনসার্ট ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক বা অন্য কোন ধরনের সভা, বিভিন্ন ধরনের মেলা, যাত্রাগান ও হাট বাজারের বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানে শব্দের মানমাত্রা অতিক্রমকারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে পারবেন।
  • বনভোজনের উদ্দেশ্যে আবাসিক এলাকা থেকে ১ কিলোমিটার দূরে বনভোজনের স্থান এবং সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত আযান ও জামাতে নামাজ আদায়ের সময় ব্যতীত শব্দের মানমাত্রা অতিক্রমকারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে পারবেন।
google news
গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

  • আবাসিক এলাকার শেষ সীমানা হতে ৫০০ মিটারের মধ্যে সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত মিকচার মেশিনসহ নির্মাণকাজে ব্যবহৃত অন্যান্য যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যাবে না।

আরও দেখুন :

Leave a Comment