বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৯৭  | পরিবেশের আইনগত নিরাপত্তা | পরিবেশ অধ্যয়ন

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৯৭ , এস.আর.ও নং ১৯৭-আইন/৯৭-বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ ( ১৯৯৫ সনের ১ নং আইন) এর ধারা ২০-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার নিম্নরূপ বিধিমালা প্রণয়ন করিল, যথা-

Table of Contents

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৯৭  | পরিবেশের আইনগত নিরাপত্তা | পরিবেশ অধ্যয়ন

১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম :

এই বিধিমালা পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৯৭ নামে অভিহিত হইবে। ২। সংজ্ঞা  : বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই বিধিমালায় 

(ক) “অধিদপ্তর” অর্থ আইনের ধারা ৩ এর উপধারা (১) এর অধীনে স্থাপিত পরিবেশ অধিদপ্তর;

(খ) “আইন” অর্থ বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (১৯৯৫ সনের ১ নং আইন);

(গ) “তফশিল” অর্থ এই বিধিমালার সহিত সংযোজিত যে-কোনো তফশিল; 

(ঘ) “ধারা” অর্থ আইনের যে-কোনো ধারা;

(ঙ) “ফরম” অর্থ এই বিধিমালার সহিত সংযোজিত যে-কোনো ফরম;

(চ) “স্থিতিমাপ” অর্থ মানমাত্রার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য; 

(ছ) “স্থানীয় কর্তৃপক্ষ” অর্থ মেট্রোপলিটন এলাকায় সিটি কর্পোরেশন, পৌর এলাকায় পৌরসভা, গ্রামীণ এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ ।

 

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৯৭  | পরিবেশের আইনগত নিরাপত্তা | পরিবেশ অধ্যয়ন

 

৪। স্বাস্থ্য হানিকর ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ধোঁয়া সৃষ্টিকারী মোটরযান সম্পর্কিত ব্যবস্থা :

(১) আইনের ধারা ৬ এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, পেট্রোল, ডিজেল বা গ্যাস চালিত প্রতিটি মোটরযানে (motor vehicle) ক্যাটালাইটিক কনভার্টার বা অক্সিডেশন ক্যাটালিস্ট বা ডিজেল পার্টিকুলেট ফিল্টার বা মহা-পরিচালক কর্তৃক অনুমোদিত এমন কোনো যন্ত্র বা কৌশল সংযোজন করিতে হইবে যেন উক্ত যান হইতে নিঃসরণের মানমাত্রা তফশিল-৬ এ বর্ণিত মানমাত্রা অতিক্রম না করে।

(২) উপবিধি (১)-এ উল্লিখিত যন্ত্রপাতি সংযোজন না করিয়া কোনো মোটরযান চালানো হইলে উহাকে স্বাস্থ্য হানিকর বা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ধোঁয়া সৃষ্টিকারী যানবাহন বলিয়া গণ্য করা হইবে এবং তজ্জন্য উক্ত যানের মালিক বা চালক বা যথাযথ ক্ষেত্রে উভয়েই আইনের ধারা ১৫(১) এর টেবিলের ক্রমিক নং ৩ এর বিপরীতে উল্লিখিত দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

(৩) উপবিধি (২)-এ উল্লিখিত দণ্ড আরোপ করা হইলে উহা মহাপরিচালক কর্তৃক নির্দেশিত আকারে ও তৎকর্তৃক নির্ধারিত মেয়াদের জন্য সংশ্লিষ্ট মোটরযানের দৃশ্যমান কোনো অংশে বা মহাপরিচালক কর্তৃক নির্ধারিত কোনো দলিলে সংক্ষিপ্ত আকারে লিপিবদ্ধ বা, ক্ষেত্রমতো প্রদর্শন করিতে হইবে।

 ৫। পরিবেশ দূষণ বা অবক্ষয় সম্পর্কিত আবেদনপত্র :

(১) ধারা ৮ এর উপধারা (১) এর বিধান মোতাবেক ক্ষতিগ্রস্ত অথবা সম্ভাব্য ক্ষতির আশাঙ্কাগ্রস্ত কোনো ব্যক্তি উক্ত ক্ষতি বা সম্ভাব্য ক্ষতির প্রতিকারের জন্য ফরম-১ অনুসারে মহাপরিচালকের নিকট আবেদন করিবেন।

(২) উপবিধি (১) অনুসারে আবেদনপত্র প্রাপ্তির তিন মাসের মধ্যে মহাপরিচালক ধারা ৮ এর উপধারা (২) এর বিধান অনুসারে আবেদনপত্রটি নিষ্পত্তি করিবেন। 

৬। নমুনা সংগ্রহের নোটিশ :

ধারা ১১ এর উপধারা (৩) এর দফা (ক) এর বিধান মোতাবেক নমুনা সংগ্রহকারী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট স্থানের দখলদার বা এজেন্টকে ফরম-২ অনুসারে উক্ত কর্মকর্তার অভিপ্রায় সম্পর্কে নোটিশ প্রদান করিবেন।

৭। পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদানের পদ্ধতি:

(১) পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদানের উদ্দেশ্যে পরিবেশের উপর প্রভাব বিস্তার এবং অবস্থান অনুযায়ী শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পসমূহ নিম্নবর্ণিত চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত হইবে, যথা- (ক) সবুজ; (খ) কমলা-ক; (গ) কমলা-খ; এবং (ঘ) লাল ।

(২) উপবিধি (১)-এ বর্ণিত শ্রেণিসমূহের অন্তর্ভুক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পসমূহের বিবরণ তফশিল-১ এ প্রদত্তm হইয়াছে ।

(৩) সকল শ্রেণির বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও প্রকল্প এবং সবুজ শ্রেণিভুক্ত প্রস্তাবিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের ক্ষেত্রে পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান করা হইবে।

(৪) কমলা-ক, কমলা-খ এবং লাল শ্রেণিভুক্ত প্রস্তাবিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম অবস্থানগত এবং ২৫৭ তৎপর পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান করা হইবে। 

তবে শর্ত থাকে যে, কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের আবেদনক্রমে এবং মহাপরিচালক যদি উপযুক্ত মনে করেন, তাহা হইলে তিনি উক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পকে অবস্থানগত ছাড়পত্র প্রদান ব্যতিরেকে সরাসরি পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান করিতে পারিবেন।

(৫) পরিবেশগত ছাড়পত্রের জন্য সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের উদ্যোক্তা তফশিল ১৩ তে বর্ণিত যথাযথ ফি সহ ফরম-৩ এ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্মকর্তার নিকট আবেদন করিবেন। 

(৬) উপবিধি (৫)-এ উল্লেখিত আবেদনপত্রের সহিত নিম্নবর্ণিত কাগজপত্র সংযুক্ত করিতে হইবে, যথা—

(ক) সবুজ শ্রেণির ক্ষেত্রে :

(অ) শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের সাধারণ তথ্যাবলি;

(আ) কাঁচামালসহ উৎপন্ন দ্রব্যের প্রকৃত বিবরণ; এবং

(ই) স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনাপত্তিপত্র

(খ) কমলা-ক শ্রেণির ক্ষেত্রে :

(অ) শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের সাধারণ তথ্যাবলি; 

(আ) কাঁচামালসহ উৎপন্ন দ্রব্যের প্রকৃত বিবরণ;

(ই) স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনাপত্তিপত্র;

(ঈ) প্রসেস ফ্লো ডায়াগ্রাম;

(উ) লে-আউট প্ল্যান (বর্জ্য পরিশোধনাগারের অবস্থান নির্দেশিত); এবং

(উ) বর্জ্য নির্গমন ব্যবস্থা;

(ঋ) পুনঃস্থাপন, পুনর্বাসন পরিকল্পনার রূপরেখা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে); 

(এ) প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্যাবলি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে);

কমলা-খ শ্রেণির ক্ষেত্রে :

(অ) শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদন (কেবল প্রস্তাবিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য); 

(আ) প্রাথমিক পরিবেশগত সমীক্ষা (Initial Environmental Examination, IEE = আইই) প্রতিবেদন,

যাহার সহিত সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের প্রসেস ফ্লো ডায়াগ্রাম, লে-আউট প্ল্যান (বর্জ্য পরিশোধনাগারের অবস্থান নির্দেশিত), বর্জ্য পরিশোধনাগার (Effluent Treatment Plant, ETP = ইটিপি) এর নকশা সংযুক্ত থাকিবে (কেবল প্রস্তাবিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য);

(ই) পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (Environmental Management Plan, EMP = ইএমপি) প্রতিবেদন, যাহার সহিত সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের প্রসেস ফ্লো ডায়াগ্রাম, লে-আউট প্ল্যান (বর্জ্য পরিশোধনাগারের অবস্থান নির্দেশিত), বর্জ্য পরিশোধনাগারের নকশাসহ উহার কার্যকারিতা সম্পর্কিত তথ্যাদি সংযুক্ত থাকিবে (কেবল বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য);

(ঈ) স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনাপত্তিপত্র; এবং

(উ) পরিবেশগত বিরূপ প্রতিক্রিয়া সংক্রান্ত জরুরি পরিকল্পনাসহ দূষণের প্রকোপ হ্রাসকরণ পরিকল্পনা;

(উ) পুনঃস্থাপন, পুনর্বাসন পরিকল্পনার রূপরেখা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে); (ঋ) প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্যাবলি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে);

 

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৯৭  | পরিবেশের আইনগত নিরাপত্তা | পরিবেশ অধ্যয়ন

 

(ঘ) লাল শ্রেণির ক্ষেত্রে :

(অ) শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদন (কেবল প্রস্তাবিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য);

(আ) প্রাথমিক পরিবেশগত সমীক্ষা প্রতিবেদন, যাহার সহিত পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণের (Environmental Impact Assessment, EIA = ইআইএ) কার্যপরিধি, সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের প্রসেস ফ্লো ডায়াগ্রাম সংযুক্ত থাকিবে, অথবা, অধিদপ্তর কর্তৃক ইতোপূর্বে অনুমোদিত কার্যপরিধির ভিত্তিতে প্রাণীত পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ প্রতিবেদন, যাহার সহিত সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের লে-আউট প্ল্যান (বর্জ্য পরিশোধনাগারের অবস্থান নির্দেশিত), বর্জ্য পরিশোধনাগারের নকশাসহ সময়সূচি, প্রসেস ফ্লো ডায়াগ্রাম সংযুক্ত থাকিবে (কেবল প্রস্তাবিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য);

পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রতিবেদন, যাহার সহিত সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের প্রসেস ফ্লো ডায়াগ্রাম, লে-আউট প্ল্যান (বর্জ্য পরিশোধনাগারের অবস্থান নির্দেশিত), বর্জ্য পরিশোধনাগারের নকশাসহ উহার কার্যকারিতা সম্পর্কিত তথ্যাদি সংযুক্ত থাকিবে। (কেবল বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য); 

(ঈ) স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনাপত্তিপত্র; এবং

(উ) পরিবেশগত বিরূপ প্রতিক্রিয়া সংক্রান্ত জরুরি পরিকল্পনাসহ দূষণের প্রকোপ হ্রাসকরণ 

(উ) পুনঃস্থাপন, পুনর্বাসন পরিকল্পনার রূপরেখা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে); পরিকল্পনা;

(ঋ) প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্যাবলি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে); 

(৭) উপবিধি (৬)-এ উল্লিখিত কাগজপত্রসহ উপবিধি (৫) এর অধীন আবেদনপত্র প্রাপ্তির পর সবুজ শ্রেণিভুক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের ক্ষেত্রে পনের কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা বরাবরে পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান করা হইবে, অথবা যথাযথ কারণ উল্লেখপূর্বক আবেদনপত্র অগ্রাহ্য করা হইবে।

(৮) উপবিধি (৬)-এ উল্লিখিত কাগজপত্রসহ উপবিধি (৫) এর অধীন আবেদনপত্র প্রাপ্তির পর কমলা-ক শ্রেণিভুক্ত প্রস্তাবিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের ক্ষেত্রে ত্রিশ কার্যদিবস এবং কমলা-খ ও লাল শ্রেণিভুক্ত প্রস্তাবিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের ক্ষেত্রে ষাট কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা বরাবরে অবস্থানগত ছাড়পত্র প্রদান করা হইবে। অথবা, যথাযথ কারণ উল্লেখপূর্বক আবেদনপত্র অগ্রাহ্য করা হইবে। উপবিধি 

(৮)-এ উল্লিখিত অবস্থানগত ছাড়পত্র প্রাপ্তির পর উদ্যোক্তা – (অ) ভূমি উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করিতে পারিবে; (আ) ইটিপিসহ যন্ত্রপাতি স্থাপন করিতে পারিবে (কেবল কমলা-ক এবং কমলা-খ শ্রেণিভুক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য); (ই) দফা (অ-আ)-এ উল্লিখিত কার্যাবলি সম্পন্ন হওয়ার পর তাহা অবহিত করিয়া পরিবেশগত ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করিবে, পরিবেশগত ছাড়পত্র ব্যতিরেকে গ্যাস সংযোগ গ্রহণ করিতে পারিবে না এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পরীক্ষামূলক উৎপাদন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রকল্প চালু করিতে পারিবে না  কমলা-ক এবং কমলা-খ শ্রেণিভুক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য);

(ঈ) আইইই প্রতিবেদনে উল্লিখিত কার্যপরিধির ভিত্তিতে ইআইএ প্রতিবেদন প্রণয়ন করিয়া ইটিপি’র নকশাসহ সময়সূচি নির্দিষ্টকৃত সময়ের মধ্যে অধিদপ্তরের অনুমোদনের নিমিত্তে পেশ করিবে (কেবল লাল শ্রেণিভুক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য)।

(১০) উপবিধি (৯) এর দফা (ই) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর কমলা-ক শ্রেণিভুক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের ক্ষেত্রে পনেরো কার্যদিবস এবং কমলা-খ শ্রেণিভুক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের ক্ষেত্রে ত্রিশ কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা বরাবরে পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান করা হইবে, অথবা যথাযথ কারণ উল্লেখপূর্বক আবেদন অগ্রাহ্য করা হইবে ।

(১১) উপবিধি (৯) এর দফা (ঈ) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর লাল শ্রেণিভুক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের ক্ষেত্রে ষাট কার্যদিবসের মধ্যে ইটিপি’র নকশাসহ সময়সূচি এবং ইআইএ প্রতিবেদন অনুমোদন করা হইবে, অথবা যথাযথ কারণ উল্লেখপূর্বক আবেদন অগ্রাহ্য করা হইবে।

(১২) উপবিধি (১১) এর অধীন ইআইএ অনুমোদিত হওয়ার পর উদ্যোক্তা- (অ) আমদানিতব্য যন্ত্রপাতির জন্য L/C খুলিতে পারিবে, যাহাতে ইটিপি সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি অন্তর্ভুক্ত থাকিবে; এবং

(আ) ইটিপি স্থাপন করিয়া পরিবেশগত ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করিবে, পরিবেশগত ছাড়পত্র ব্যতিরেকে গ্যাস সংযোগ গ্রহণ করিতে পারিবে না এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পরীক্ষামূলক উৎপাদন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রকল্প চালু করিতে পারিবে না । 

(১৩) উপবিধি (১২) এর দফা (আ) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর লাল শ্রেণিভুক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের ক্ষেত্রে ত্রিশ কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা বরাবরে পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান করা হইবে অথবা যথাযথ কারণ উল্লেখপূর্বক আবেদন অগ্রাহ্য করা হইবে।

(১৪) উপবিধি (৬)-এ উল্লিখিত কাগজপত্রসহ উপবিধি (৫) এর অধীন আবেদনপত্র প্রাপ্তির পর কমলা-ক শ্রেণিভুক্ত বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের ক্ষেত্রে ত্রিশ কার্যদিবস এবং কমলা-খ ও লাল শ্রেণিভুক্ত বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের ক্ষেত্রে ষাট কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা বরাবরে পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান করা হইবে, অথবা, যথাযথ কারণ উল্লেখপূর্বক আবেদন অগ্রাহ্য করা হইবে।

৭ক। দূষণ নিয়ন্ত্রণাধীন সনদ :

বিধি ৪ এর উপবিধি (১)-এ উল্লিখিত যন্ত্রপাতি সংযোজনের এবং Motor Vehicles Ordinance, 1983 (LV of 1983) এর অধীন বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি কর্তৃক রেজিস্ট্রেশন প্রদান ও ফিটনেস সার্টিফিকেট জারি বা, ক্ষেত্রমতো, নবায়নের ২ (দুই) মাসের মধ্যে মোটরযানের মালিক ফরম ৪ মোতাবেক মহাপরিচালকের নিকট হইতে “দূষণ নিয়ন্ত্রণাধীন সনদ” সংগ্রহ করিবে। 

৭খ। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ধোঁয়া নিয়ন্ত্রক যন্ত্রপাতি আমদানি ও বাজারজাতকরণের শর্ত :

বিধি ৪(১)-এ উল্লিখিত যন্ত্রপাতি আমদানি বা বাজারজাত করিবার পূর্বে আমদানিকারক বা, ক্ষেত্রমতো, বাজারজাতকারী উক্ত যন্ত্রপাতি প্রদর্শনীর মাধ্যমে উহার কার্যকরতা প্রমাণ সাপেক্ষে মহাপরিচালকের নিকট হইতে লিখিত অনুমোদন গ্রহণ করিবেন। 

৮। পরিবেশগত ছাড়পত্রের মেয়াদ :

(১) পরিবেশগত ছাড়পত্রের মেয়াদ হইবে সংশ্লিষ্ট ছাড়পত্র ইস্যুর তারিখ হইতে সবুজ শ্রেণির ক্ষেত্রে তিন বৎসর এবং অন্যান্য শ্রেণির ক্ষেত্রে এক বৎসর।

(২) প্রত্যেকটি পরিবেশগত ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হইবার অন্তত ত্রিশ দিন পূর্বে উহা নবায়ন করিতে হইবে।

৯। আপিল :

(১) ধারা ১৪ এর অধীন যে নোটিশ, আদেশ বা নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা হইবে, তৎসম্পর্কে আপত্তির কারণসমূহ সংক্ষেপে ও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করিতে হইবে।

(২) প্রত্যেকটি আপিলের সহিত নিম্নবর্ণিত কাগজপত্র থাকিতে হইবে, যথা— (অ) যে নোটিশ, আদেশ বা নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হইতেছে উহার একটি করিয়া প্রমাণকৃত (আ) পরিবেশগত ছাড়পত্রের কপি (যদি থাকে); (ই) আপিল ফি বাবদ এক হাজার টাকা জমা প্রদানের প্রমাণস্বরূপ ট্রেজারি চালান; এবং

(ঈ) আপীলের সহিত সম্পর্কযুক্ত অন্য কোনো কাগজাদি ।

১০। আপিল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুসরণীয় পদ্ধতি  :

(১) আপিল কর্তৃপক্ষ তাহাদের অফিসের কার্যভার এবং প্রতিপক্ষের প্রতি নোটিশ জারির জন্য প্রয়োজনীয় সময় বিবেচনা করিয়া আপিল শুনানির জন্য একটি দিন ধার্য করিবে। (২) অধিদপ্তরের যে কার্যালয়ের নোটিশ, আদেশ বা নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা হইয়াছে, সেই কার্যালয় বরাবরে আপিল কর্তৃপক্ষ আপিল শুনানির তারিখ উল্লেখ করিয়া আপিলের কপিসহ নোটিশ প্রেরণ করিবে । (৩) আপিল কর্তৃপক্ষ আপিল নিষ্পত্তির সুবিধার্থ প্রয়োজনীয় সকল কাগজ, তথ্যাদি যে-কোনো সময় আপিলকারী বা প্রতিপক্ষের নিকট হইতে তলব করিতে পারিবে। 

১১। আপিল শুনানিকালীন পদ্ধতি  :

(১) শুনানির জন্য নির্ধারিত তারিখে, অথবা শুনানি মুলতুবি হইলে পরবর্তী তারিখে আপিলের সমর্থনে আপিলকারীর বক্তব্য শ্রবণ করা হইবে।

(২) শুনানির জন্য ধার্য তারিখে অথবা শুনানি মুলতুবি হইলে পরবর্তী তারিখে আপিল শুনানির জন্য ডাক পড়িলে যদি আপিলকারী হাজির না হয়, তাহা হইলে আপিল কর্তৃপক্ষে আপিল খারিজের আদেশ দান করিতে পারিবে।

(৩) যদি আপিলকারী হাজির হয়, কিন্তু প্রতিপক্ষ হাজির না হয় তবে একতরফাভাবে আপিলের শুনানি হইবে।

(৪) যদি উপবিধি (২) অনুসারে আপিল খারিজ হয়, তবে আপিলকারী উক্ত খারিজের আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ত্রিশ কার্যদিবসের মধ্যে পুনরায় আপিল মঞ্জুরের জন্য আপিল কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করিতে পারিবে।

(৫) আপিল কর্তৃপক্ষ পক্ষগণ বা কোনো এক পক্ষের শুনানির পর তর্কিত নোটিশ, আদেশ বা নির্দেশ অনুমোদন, রদবদল বা বাতিল করিতে পারিবে।

(৬) আপিল কর্তৃপক্ষ তাহার সিদ্ধান্তের অনুকূলে যুক্তিযুক্ত কারণ লিপিবদ্ধ করিবেন এবং আপিলকারী কী প্রতিকারপ্রাপ্য হইবেন তাহা উল্লেখ করিবে।

(৭) আপিল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত আদেশের কপি যথাশীঘ্র সম্ভভ আপিলকারী, অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় এবং মহাপরিচালক বরাবরে প্রেরণ করা হইবে।

 

google news
গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

 

১২। পরিবেশগত মানমাত্রা নির্ধারণ :

ধারা ২০ এর উপধারা (২) এর দফা (ক) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বায়ু, পানি, শব্দ এবং ঘ্রাণসহ পরিবেশের অন্যান্য উপাদানের মানমাত্রা তফশিল-২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭ এবং ৮-এ উল্লিখিত মানমাত্রার ভিত্তিতে নির্ধারিত হইবে ।

১৩। বর্জ্য নিঃসরণ ও নির্গমনের মানমাত্রা নির্ধারণ : ধারা ২০ এর উপধারা (২) এর দফা (ঙ) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে তরল বর্জ্য নির্গমন এবং গ্যাসীয় নিঃসরণের পরিসীমা তফশিল-৯, ১০ ও ১১ এবং শিল্প শ্রেণিভিত্তিক বর্জ্য নিঃসরণ বা নির্গমনের মানমাত্রা তফশিল-১২-তে উল্লিখিত মানমাত্রার ভিত্তিতে নির্ধারিত হইবে।

১৪। পরিবেশগত ছাড়পত্র বা ছাড়পত্র নবায়ন ফি ঃ এই বিধিমালার অধীন পরিবেশগত ছাড়পত্র বা ছাড়পত্র নবায়ন

ফি তফশিল-১৩ অনুযায়ী প্রদেয় হইবে। 

১৫। বিভিন্ন সেবা ও উহার ফি ঃ (১) কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার আবেদনক্রমে অধিদপ্তর কর্তৃক পানি, তরল বর্জ্য, বায়ু

ও শব্দের নমুনা বিশ্লেষণ এবং বিশ্লেষণজাত তথ্য ও উপাত্ত সরবরাহ করা হইবে। (২) উপবিধি (১)-এ উল্লিখিত সেবার জন্য তফশিল-১৪-তে বর্ণিত যথাযথ ফি প্রদান করিতে হইবে। 

১৬। ফি প্রদানের পদ্ধতি ঃ এ বিধিমালার অধীন প্রদেয় বিভিন্ন মহাপরিচালকের অনুকূলে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে “৬৫ বিবিধ আয়করমুক্ত রাজস্ব খাতে” বাংলাদেশ ব্যাংক অথবা সরকারি ট্রেজারিতে জমা দিতে হইবে এবং ট্রেজারি চালান আবেদনপত্রের সহিত সংযুক্ত করিতে হইবে।

১৭। বিশেষ ঘটনা অবহিতকরণ ঃ কোনো স্থানে নির্দিষ্টকৃত মানমাত্রার অতিরিক্ত পরিবেশ দূষক নির্গত বা নিঃসৃত হইলে বা কোনো দুর্ঘটনা বা অদৃষ্টপূর্ব কোনো ক্রিয়া বা ঘটনার কারণে কোনো কোনো স্থান এইরূপ আশঙ্কাযুক্ত হইলে সেই দূষণ ঘটনাধীন স্থান বা দূষণ আশঙ্কাযুক্ত স্থানের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনা বা আশঙ্কিত ঘটনার বিষয় সম্পর্কে মহাপরিচালককে অবহিত করিবে। 

আরও দেখুনঃ

Leave a Comment