পরিবেশ বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশন, আইন এবং চুক্তি

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় পরিবেশ বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশন, আইন এবং চুক্তি

পরিবেশ বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশন, আইন এবং চুক্তি

পরিবেশগত বিষয়াদি সর্বদা পরিবর্তনশীল, পরিবর্ধনশীল এবং সমন্বিত বিষয়। বর্তমানে পরিবেশগত ইস্যুজ ছাড়াও পরিবেশগত উপবিষয়গুলোও আন্তর্জাতিক আইন ও নীতির আওতায় আনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষিতে বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের ন্যায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করার সাফল্যের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃত।

এছাড়াও গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স ২০২০ (জার্মান ওয়াচ) অনুযায়ী বিশ্বের ১৭১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ২০২১-২০২৫)। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় হিউগো ফ্রেমওয়ার্ক ফর একশন, ইউনাইটেড নেশন্‌স ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ, সার্ক কমপ্রিহেনসিভ ফ্রেমওয়ার্ক অন ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট, মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

আন্তর্জাতিকভাবে, পরিবেশগত ইস্যুজ অনুসারে পরিবেশগত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখযোগ্য কনভেনশন, আইন এবং চুক্তিসমূহ আলোচ্য পাঠে আলোচনা করা হলো।

প্রজাতি এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা

অধিক হারে বৃক্ষ কর্তনের জন্য মৃত্তিকা ক্ষয় বৃদ্ধি পায় এবং ব্যাপক কৃষির জন্য ভূমির মানও হ্রাস পায়। এতে তৃণভোজী প্রাণীর খাদ্যাভাব দেখা যায়। যার দরুন কোনো কোনো প্রজাতি বিলুপ্ত হয় বা অন্যত্র অভিগমন করে। প্রাকৃতিক সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ, পুনঃব্যবহার এবং টেকসই সরবরাহের জন্য যে কোনো প্রতিবেশে বা ইকোসিস্টেমে প্রজাতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন সময়ের প্রজাতি এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নীতিমালা, চুক্তি ও কনভেনশনসমূহ চিত্র-১১.৩ এ দেখানো হয়েছে।

 

পরিবেশ বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশন, আইন এবং চুক্তি

চিত্র – ১১.৩ প্রজাতি এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক নীতিমালা, চুক্তি এবং কনভেনশনসমূহ

পরিবেশ ও উন্নয়ন (১৯৯২), এই সম্মেলনকে ধরিত্রী সম্মেলন ( Earth Summit) বলে। পরবর্তীতে একে রিও কনফারেন্স (Rio conferance) বলা হয়। ইউ.এন. জেনারেল অ্যাসেম্বলির সিদ্ধান্ত ৪৪/২২৮ ( ২০ শে ডিসেম্বর ১৯৮৮) অনুযায়ী ১৯৯২ সালের ৩-১৪ জুন রিও ডি জেনিরো (Rio de Jeneiro ) তে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত সম্মেলনের প্রধান দুইটি বিষয় হলো –

১। রিও – ঘোষণা (Rio Declaration) । এটি রিও+১০ (Rio+10) নামেও পরিচিত। উক্ত সম্মেলনে টেকসই উন্নয়নের ঘোষণা দেওয়া হয় এবং টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রায়োগিক দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

২। এ্যাজেন্ডা ২১ –

এছাড়াও উক্ত সম্মেলনে স্বাক্ষরের জন্য দুইটি বহুমাত্রিক চুক্তি উন্মুক্ত করা হয়। যথা-

১। জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর ইউনাইটেড নেশনস ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (United Nations Framework Convention on Climate Change, UNFCCC).

২। জীববৈচিত্র্যতা বিষয়ক সম্মেলন

টেকসই উন্নয়ন

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশ উন্নয়নের জন্য বর্তমানে টেকসই উন্নয়নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্যও টেকসই উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ। চিত্র ১১.৪ লক্ষ করুন। চিত্রে টেকসই উন্নয়ন সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক কনভেনশনসমূহ দেখানো হলো ।

 

পরিবেশ বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশন, আইন এবং চুক্তি

চিত্র – ১১.৪ টেকসই উন্নয়ন সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক কনভেনশনসমূহ

ইউ.এন. সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত ৫৫/১৯৯, ২০শে ডিসেম্বর ২০০০ অনুযায়ী ২০০২ সালের ২৪ শে আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর জোহানেসবার্গে টেকসই উন্নয়নের ওপর বিশ্ব সম্মেলন (2002) ( World Summit on Sustainable Development (2002) অনষ্ঠিত হয়।

সাধারণ সভার উচ্চ পর্যায়ের পূর্ণাঙ্গ মিটিং এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১৫ সালের ২৫-২৭ শে সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে টেকসই উন্নয়ন সম্মেলন ২০১৫ অনুষ্ঠিত হয়। যা ইউ.এন. টেকসই উন্নয়ন সম্মেলন (২০১৫) নামে পরিচিত। প্রতিপাদ্য বিষয় ছিলো-বদলে দিই পৃথিবী (Transforming our World: 2030 ) ।

দূষণ

দুর্যোগের সংখ্যা কমানো ও দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের বিষয়। বায়ুমণ্ডলে বিগত ২০০ বছরে কার্বন ডবনউঅঠ বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ৫০ শতাংশ। জলবায়ু মডেল অনুযায়ী, ২১০০ শতাব্দীতে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা সম্ভবত ২°C থেকে ৬°C পর্যন্ত বাড়তে পারে যদি কার্বন ডাইঅক্সাইড বৃদ্ধির প্রবণতা বিগত ২০০ বছরের মতো হয়। দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিশ্বে নীতিমালা, চুক্তি ও কনভেনশনসমূহ চিত্র ১১.৫ এ দেখানো হলো।

পরিবেশ বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশন, আইন এবং চুক্তি

চিত্র – ১১.৫ দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের নীতিমালা, চুক্তি ও কনভেনশনসমূহ

ওজোন স্তর এবং বায়ুমণ্ডলের সুরক্ষা

বাতাসে কার্বন মনো অক্সাইড (CO), নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (NO2), সালফার ডাই অক্সাইড (SO2), ওজোন (O3) প্রভৃতি গ্যাসের মাত্রা বেড়ে গিয়ে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করছে। ফ্রিজ, এসি এবং স্প্রে থেকে নিঃসরিত সিএফসি (CFC) গ্যাস বায়ুমণ্ডলকে সর্বাধিক উত্তপ্ত করছে।

ফলশ্রুতিতে ওজোন স্তরের ক্ষয় হচ্ছে এবং বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন- বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় এমনকী সিডর, আইলার মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। চিত্র ১১.৬ এ ওজোন স্তর এবং বায়ুমণ্ডলের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক কনভেনশেন, প্রোটকল ও সংশোধনীসমূহ দেখানো হলো।

 

পরিবেশ বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশন, আইন এবং চুক্তি

চিত্র – ১১.৬ ওজোন স্তর এবং বায়ুমণ্ডলের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক কনভেনশেন, প্রোটকল ও সংশোধনীসমূহ

বাণিজ্য এবং পরিবেশ

বর্তমান পৃথিবীতে জনসংখ্যা ৭ বিলিয়ন এর অধিক। প্রোজেক্‌শন অনুযায়ী ধারণা করা হচ্ছে ২০৫০ সালের মধ্যে জনসংখ্যা ৮ থেকে ১০ বিলিয়ন হবে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য বাণিজ্যের প্রসার এবং টেকসই পরিবেশ উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্য এবং পরিবেশ রক্ষায় পরিবেশগত সহযোগিতা সম্পর্কিত উত্তর আমেরিকার চুক্তি (NAAEC) ১৯৯৩ ও আহারুস কনভেনশন ১৯৯৯ উল্লেখযোগ্য । চিত্র- ১১.১০ লক্ষ করুন ।

 

চিত্র – ১১.১০ বাণিজ্য এবং পরিবেশ রক্ষায় কনভেনশন ও চুক্তি

হিউগো ফ্রেমওয়ার্ক ফর একশন

জাপানের কোবে নগরীতে বিশ্বের ১৬৮টি দেশের প্রতিনিধি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় ও দুর্যোগ জনিত ঝুঁকি কমাতে ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে একটি সম্মেলন করেন। উক্ত সম্মেলন হিউগো ফ্রেমওয়ার্ক ফর অ্যাকশন নামে পরিচিত।

পরিবেশ বিষয়ক উক্ত কর্মকাঠামোতে টেকসই উন্নয়নের জন্য, বিভিন্নমুখী আপদ মোকাবেলার কৌশল, দুর্যোগের ভয়াবহতা ও প্রকোপ হ্রাস করা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসকে জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মূলধারায় অন্তর্ভূক্ত করা, ঝুঁকি মোকাবেলায় জাতীয় সামর্থ্যকে শক্তিশালী করা, দুর্যোগ প্রস্তুতিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিনিয়োগ করা, দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষমতা অর্জনে সুশীল সমাজকে সম্পৃক্ত করা প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

ইউনাইটেড নেশনস্ ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ১৯৮৮ সালে ইউনাইটেড নেশনস্ ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (UNFCCC) গঠিত হয়। এই প্যানেলের ১৯৯০ সালে প্রকাশিত প্রথম প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরিবেশ বিষয়ক সমস্যা মোকাবেলার জন্য ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিওডি জেনিরো ধরিত্রী সম্মেলনের ইন্টার গভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (IPCC) প্রতিষ্ঠা করে।

এই কনভেনশন অনুযায়ী ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতিবছর ১টি করে সম্মেলন হচ্ছে যা বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন নামে পরিচিত। ২০১২ সালে কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলনে ধনী ও উন্নত দেশসমূহকে গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন হ্রাসে কিটোপ্রোটকল দ্বিতীয় প্রতিশ্রুতির মেয়াদ ২০১৩-২০২০ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয় ।

UNFCCC এর একটি সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে, ২০৫০ সাল নাগাদ প্রায় ২০০ মিলিয়ন মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগে আক্রান্ত হয়ে উদ্বাস্তু হবে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের প্রভাব মোকাবেলায় জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন এবং টেকসই উন্নয়নের ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সার্ক কমপ্রিহেনসিভ ফ্রেমওয়ার্ক অন ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট

২০০৬ সালে ঢাকায় সার্ক কমপ্রিহেনসিভ ফ্রেমওয়ার্ক অন ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট নামে পরিবেশ বিষয়ক আঞ্চলিক কর্ম- কাঠামো প্রণয়ন করা হয়। উক্ত কর্মকাঠামোতে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ( নারী, দরিদ্র ও সুবিধা বঞ্চিত) ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা, ঝুঁকিহ্রাস কর্মসূচি ও জরুরি সাড়াদান পদ্ধতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল ও দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস: জাতিসংঘের ২০০০ সালের উন্নয়ন সহস্রাব্দের মূল উদ্দেশ্য ছিল ‘বিপদাপন্ন জনগোষ্ঠীকে’ রক্ষা করা। সহস্রাব্দ ঘোষণায় মূলত দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এর মাধ্যমে টেকসই পরিবেশকে নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল

বিশ্ব টেকসই উন্নয়নে ও পরিবেশ রক্ষায় ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো শহরে রিও + ২০ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক বিশ্ব ধরিত্রী সম্মেলনে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (MDG) এবং দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

google news
গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

প্যারিস চুক্তি

জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (UNFCCC) এর মধ্যে প্যারিস চুক্তি ২০১৫ সালে সম্পাদিত একটি ভলান্টারি চুক্তি। এই চুক্তিতে গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ প্রশমনে, জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে অভিযোজন এর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্বের ১৯২ টি সদস্য রাষ্ট্র এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

কিটো প্রোটকল

জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত ইউনাইটেড নেশনস্ ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (United Nations Framework Convention) কিটো প্রোটকল নামে পরিচিত।

কারটেজেনা প্রোটকল

বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটি সম্পর্কিত জীববৈচিত্র্য কনভেনশন (Bio-diversity Convention) কারটেজেনা প্রোটকল
(Cartagena Protocol) নামে পরিচিত ।

মন্ট্রিল প্রোটকল

মন্ট্রিল প্রোটকলে ওজোন স্তরের ক্ষয় (Montreal Protocol: Ozone layer Depletion) নিয়ে আলোচনা ছিল মূখ্য আলোচ্য বিষয়।

ধরিত্রী সম্মেলন

রিওডি জেনেরিওতে ৩ থেকে ১৪ জুন ১৯৯২ সালে পরিবেশ ও উন্নয়ন বিষয়ক জাতিসংঘ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এটি রিও সামিট (Rio-Summit ), রিও-কনফারেন্স (Rio Conference) বা ধরিত্রী সম্মেলন (Earth Summit) নামে পরিচিত, এই সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন কনভেনশন (Climate Change Convention) বিষয়ক চুক্তি হয় যা পরবর্তীতে কিটো প্রোটকল (Kyoto-Protocol) নামে পরিচিত হয়।

তাছাড়াও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। যথা-

১। জীববৈচিত্র্য কনভেনশন (Convention on Biological Diversity)

২। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক কাঠামোগত কনভেনশন (Framework Convention on Climate Change)

৩। মরুকরণ রোধে জাতিসংঘ কনভেনশন (United Nations Convention to Combat Desertification)

ধরিত্রী সম্মেলনের মূল বিষয়

ধরিত্রী সম্মেলনের ফলাফলকে প্রধান দুইটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

১। পরিবেশ ও উন্নয়ন বিষয়ক রিও ঘোষণা
২। এজেন্ডা ২১ (Agenda – 21 )

পরিবেশ ও উন্নয়ন বিষয়ক রিও ঘোষণা (Rio Declaration for Environment and Development)

পরিবেশ ও উন্নয়ন বিষয়ক রিও – ঘোষণায় ১৭টি নীতি রয়েছে। রিও ঘোষণার গুরুত্বপূর্ণ নীতিসমূহ হলো –

  • টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে মানুষ। তাই প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে ভারসাম্য বজায় রেখে উন্নয়ন করবে।
  • বর্তমান প্রজন্মের উন্নয়ন নির্ধারণ করতে হবে ভবিষ্যত প্রজন্মের উন্নয়নকেও সমানভাবে নিশ্চিত করে।
  • টেকসই উন্নয়নের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণকে উন্নয়ন প্রক্রিয়ার বিচ্ছিন্নভাবে বিবেচনা করা যাবে না বরং অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
  • প্রতিবেশগত ভারসাম্যতা, বিশুদ্ধতা সংরক্ষণ এবং পুনঃস্থাপনের জন্য বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের চেতনার রাষ্ট্রগুলো পরস্পরকে সহযোগিতা করবে।
  • সকল রাষ্ট্র উৎপাদন (Production) এবং ভোগের (Consumer) ক্ষেত্রে টেকসই নয় (Non- Sustainable ) এমন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রথমে হ্রাস করবে পরবর্তীতে পরিহার করবে। এতে করে উন্নত জীবন এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে ।
  • প্রত্যেক রাষ্ট্র কার্যকর পরিবেশ আইন প্রণয়ন করবে।

এছাড়াও রিও ঘোষণায় পরিবেশের নিম্নোক্ত বিষয়সমূহের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন-

  • কার্বন ডাই অক্সাইড ও মিথেন (CH4) সহ গ্রিনহাউস গ্যাসগুলোর নির্গমন সীমিতকরণ।
  • ব্যাপকভাবে বন উজাড়করণ বন্ধ করতে হবে এবং বনজ সম্পদের সংরক্ষণ করতে হবে।
  • অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং পরিবেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক থাকবে। তৃতীয় বিশ্বের দারিদ্র এবং উন্নত জাতিগুলোর ভোগ প্রবণতা কমাতে হবে।
  • একবিংশ শতাব্দিতে টেকসই উন্নয়ন অর্জন করতে হবে।

এজেন্ডা ২১ (Agenda – 21 ) :

রিও সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ দলিল এজেন্ডা- ২১। যেখানে চল্লিশটি অধ্যায় রয়েছে, যা চারটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়। চিত্র- ১২.৮ লক্ষ করুন ।

 

চিত্র – ১১.১১ এজেন্ডা-২১ (প্রধান চারটি পর্ব)

পরবর্তীতে সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত ৪৭ / ১৯০ এবং ৫১/১৮১ অনুয়ায়ী ১৯৯৭ সালের ২৩-২৭ জুন নিউইয়র্কে সাধারণ সভার বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। যা পরিবেশ বিষয়ক সাধারণ সভার বিশেষ অধিবেশন (১৯৯৭) (General Assembly Special Session on the Environment (1997) নামে পরিচিত। এটি ধরিত্রী সম্মেলন+৫ (Earth Summit+5) নামেও পরিচিত। এই সম্মেলনে এ্যাজেন্ডা- ২১ এর প্রয়োগযোগ্যতা ও প্রায়োগিক দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আরও দেখুন :

Leave a Comment